মা ছেলের বাস্তব ঘটনা! গোপন গুনাহ এত ভয়াবহ!
মহল্লার এক যুবক মা'রা গেল। খবর শুনে সবাই তাকে দেখতে ছুটে এলো। এলাকার সম্মানিত মুরব্বি ব্যক্তি হিসেবে শায়েখ আব্দুল্লাহও গেলেন। ছেলেটিকে তিনি চিনতেন। ভদ্র, শান্ত স্বভাবের বলেই সবাই জানত তাকে।
বাড়িতে মানুষের ভিড়। আত্মীয়স্বজন কান্নাকাটি করছে। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছে, কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ছেলেটির মায়ের কান্না ছিল অন্যরকম। যেন বুকফাটা আর্তনাদ। এমন কান্না, যা শুধু মৃত্যুর শোকে নয়—আরও গভীর কোনো যন্ত্রণায় ভরা।
শায়েখ আব্দুল্লাহ ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে বললেন,
বোন, পৃথিবীতে কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না। আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আপনার ছেলে মা'রা গেছে—এটাই আল্লাহর ফয়সালা। এতে ধৈর্য ধরুন। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।
মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন,
শায়েখ, আমার ছেলে মারা গেছে—এটা আমি মেনে নিয়েছি। আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আমি কাঁদছি... সে যেভাবে মারা গেল, সেটা মনে করে.
কথাটা শুনে শায়েখ চুপ হয়ে গেলেন। আশেপাশে অনেক মানুষ ছিল। তাই আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।
কিছুদিন পর সেই মা নিজেই শায়েখকে পুরো ঘটনা খুলে বললেন—আমার ছেলে প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিত। আমরা ভাবতাম হয়তো ক্লান্ত, একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা পর বের হয়ে খাওয়া-দাওয়া করত, আমাদের সাথে গল্প করত। এটাই ছিল তার প্রতিদিনের অভ্যাস।
সেদিনও প্রতিদিনের মতো বাসায় এসে রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। অনেক সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু কোনো সাড়া নেই। আমরা ডাকলাম, দরজায় নক করলাম—কোনো উত্তর নেই। চার-পাঁচ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। শেষে বাধ্য হয়ে দরজা ভাঙতে হলো।
ভেতরে ঢুকে দেখি, আমার ছেলে বিছানায় নিথর পড়ে আছে। আর সামনে ল্যাপটপে চলছে অশ্লীল ভিডিও..
এতটুকু বলে মায়ের গলা বন্ধ হয়ে এলো।
আমরা কখনো কল্পনাও করিনি সে এসব দেখত। প্রতিদিন যে সময়টা আমরা ভাবতাম সে বিশ্রাম নেয়, সেই সময়েই সে গোপনে এই নোংরামিতে ডুবে থাকত। আর সেই অবস্থাতেই আল্লাহ তার মৃ'ত্যু দিলেন... এটা ভাবতেই আমার বুক ফেটে যায়...
শায়েখ আব্দুল্লাহ নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। মায়ের চোখের পানি টপটপ করে মেঝেতে পড়ছিল।
আসলে মানুষ যখন প্রথমবার গোপনে কোনো গুনাহ করে, তখন তার ভেতরে ভয় কাজ করে, অপরাধবোধ হয়। সে তাওবা করে, আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যখন কেউ বারবার লুকিয়ে গুনাহ করতে থাকে, একসময় সেই গুনাহ তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে যায়। অন্তর কঠিন হয়ে যায়। তখন সে ভাবে—কেউ তো দেখছে না।
কিন্তু মানুষ না দেখলেও আল্লাহ সব দেখেন।
আর কখনো কখনো আল্লাহ এমনভাবে পর্দা সরিয়ে দেন, যা কল্পনারও বাইরে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—গুনাহ করতে করতেই মৃ'ত্যু চলে আসা। কারণ রাসূল ﷺ বলেছেন:
প্রত্যেক মানুষকে সেই অবস্থাতেই উঠানো হবে, যে অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। (সহি মুসলিম, হাদিস: ২৮৭৮)
তাই গোপন গুনাহকে ছোট মনে করবেন না। মানুষকে লুকানো যায়, কিন্তু আল্লাহকে নয়।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment